নোয়াখালীর মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত

বাংলাদেশের ব্যাপক জনপ্রিয় জেলা নোয়াখালী। এ জেলার মানুষদের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো যা অন্য অঞ্চলের মানুষদের কমই দেখা যায়। তো চলুন, নোয়াখালীর মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

নোয়াখালীর মানুষ কেমন হয়?

সাধারণত নোয়াখালীর মানুষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো তারা অতিথি পরায়ন। তারা মেহমানদের আপ্পায়ন করতে কখনো কার্পণ্য করেনা। যার একটি খন্ডচিত্র “ব্যাচেলর পয়েন্ট” নাটকে দেখা গিয়েছিল।

তারা সাধারণত পরিশ্রমী হয়ে থাকে। চরাঞ্চলের মানুষ এদিক থেকে বিশেষভাবে এগিয়ে থাকবেন। তারা পড়ালেখায় পিছিয়ে থাকলেও কাজ করতে দ্বিধা করেনা।

নোয়াখালীর মানুষের বৈশিষ্ট্য
নোয়াখালীর মানুষের বৈশিষ্ট্য

নোয়াখালী অঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বাস করে। তাই সবারই বৈশিষ্ট্য কিছুটা আলাদা। কৃষক শ্রেনীর লোকেরা সাধারণত পরিশ্রমী ও সাদামাটা জীবন যাপন করেন।

শিক্ষিত লোকেরা দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের মতোই হয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন কাজের সুবাদে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের সাথে মেশার ফলে তাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়েনা।

অন্যান্য এলাকার মতো কিছু খারাপ স্বভাবের লোকও নোয়াখালীতে রয়েছে। তাদেরকে দেখলে যেমন মনে হবে নোয়াখালীর মানুষ খারাপ, আবার ভালো প্রকৃতির মানুষদের দেখলে ঠিক তার উল্টোটা মনে হবে। তখন ভাববেন নোয়াখালীর মানুষের চেয়ে ভালো মানুষ হয়তো পৃথিবীতে নেই।

নোয়াখালীর মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ বেশ চালাক চতুর ও সামাজিক প্রকৃতির। ব্যবসা বাণিজ্যে সারা দেশে নোয়াখালীর মানুষের বেশ সুনাম রয়েছে।

নোয়াখালীর পুরুষদের বৈশিষ্ট্য

গ্রামের মানুষ হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত। তাদের জীবনের চাহিদা খুবই কম হয়। তারা মাঠে কাজ করে আর দু বেলা পেট ভরে খায়। সাদা মাটা জীবনই তাদের মূল বৈশিষ্ট্য। তারা সাধারণত কর্মঠ প্রকৃতির হয়।

আরো পড়ুনঃ নোয়াখালীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামের তালিকা

আর অন্যান্য শ্রেণিপেশার মানুষেরাও উদার মনের হয়ে থাকে। লুঙ্গী, শার্ট, প্যান্ট, পাজামা, পাঞ্জাবি এই অঞ্চলের পুষদের প্রধান পোশাক।

নোয়াখালীর বেশিরভাগ মানুষ বর্তমানে প্রবাস জীবনকেই জীবিকা সংগ্রহের প্রধান উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। তাই নোয়াখালীর মানুষের একটি বড় অংশ প্রবাসী।

নোয়াখালীর নারীদের বৈশিষ্ট্য

নোয়াখালীর নারীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা অতিথি আপ্পায়নে পটু। বাংলাদেশের অন্য জেলা থেকে কেউ নোয়াখালী ঘুরতে আসলে সে এই বিষয়টা দেখে অবশ্যই অবাক হবে।

অতিথি এলে বিভিন্ন প্রকারের খাবারের মেলা সাজানোই তাদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন রকমের পিঠা পুলি বানাতে নোয়াখালীর মেয়েরা খুবই পারদর্শী।

তবে সব মানুষ যে একই রকম এমনটা ভাবা ভুল হবে। কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির মানুষও আছে।

এই অঞ্চলের মেয়েরা একটু লাজুক প্রকৃতির হয়। তারা ধর্ম কর্ম পালন করে। এই এলাকার বেশিরভাগ মেয়েরা সাধারণত একা একা কোথাও যাওয়া আসা করেনা। ঘরের অন্য সদস্যদের সাথে যায়।

তবে বর্তমানে মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে৷ তাই অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হচ্ছে। এই এলাকার মেয়েরা বেশিরভাগ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। তাই তারা ধর্মীয় রীতি নীতি বিশেষভাবে মেনে চলে।

এই এলাকার নারীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা বিভিন্ন কারণে কান্না করার সময় এক বিশেষ শ্লোকের মাধ্যমে কান্না করে। এই শ্লোকে তারা তাদের কষ্টের কথা ছড়ায় ছড়ায় বলে। তবে বর্তমান যুগের মেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা তেমন লক্ষ করা যায়না।

শেষ কথা

কথা হচ্ছিল নোয়াখালীর মানুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ে। আসলে কোন এলাকার সকল মানুষের বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়না। নোয়াখালীও তার ব্যতিক্রম নয়। ভালো খারাপ মিলেই এই এলাকার মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top