নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান | ঘুরে আসুন আপনিও

ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী জেলায় রয়েছে নানান বিখ্যাত ও দর্শনীয় স্থান। ভ্রমণ পিপাসুরা প্রায়ই এসব স্থানে ভ্রমণে যেতে আগ্রহী। তাদের জন্যই নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান ও এর সম্পর্কে সংক্ষিপ বর্ণণা তুলে ধরা হলো।

নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান

বিখ্যাত স্থানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে সংক্ষেপে স্থানগুলোর তালিকা দেখে নেওয়া যাক।

  1. নিঝুম দ্বীপ
  2. মুছাপুর ক্লোজার
  3. গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট
  4. পৌর পার্ক, মাইজদী
  5. বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
  6. বজরা শাহী মসজিদ
  7. আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়
  8. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
  9. নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক
  10. নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ ইত্যাদি
নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান
নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান

এখানে মোটামুটি পরিচিত স্থানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো। এবার চলুন এই দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।

নিঝুম দ্বীপ

নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হচ্ছে নিঝুম দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপে রয়েছে হরিণ, মহিষ সহ নানা বন্য প্রাণী।

নিঝুম দ্বীপ, নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান
নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী, ছবিঃ সময় নিউজ

নিঝুম দ্বীপে রয়েছে বিখ্যাত চেঁউয়া মাছ। এই দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতীর অতিথী পাখি দেখতে পাওয়া যায়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য অবকাশ যাপনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রিসোর্টের ব্যবস্থা।

এই দ্বীপকে ঘীরে আছে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদী। মেঘমা নদীদে পাওয়া বিভিন্ন প্রকারের মাছ। ত্মযার দরুন নিঝুম দ্বীপের বেশিরভাগ মানুষই মৎসজীবি।

নিঝুম দ্বীপ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলে শেষ করা কঠিন। এটি নিয়ে আমরা একটি আলাদা আর্টিকেলে বিস্তারিত লিখবো ইনশাআল্লাহ।

মুছাপুর ক্লোজার

মুছাপুর সমুদ্র সৈকত বা মুছাপুর ক্লোজার হচ্ছে নোয়াখালীর দ্বিতীয় বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। জায়গাটি অসাধারণ সৌন্দর্যে ভরপুর।

মুছাপুর ক্লোজার ও সমুদ্র সৈকত
মুছাপুর ক্লোজার, ছবিঃ আদার ব্যাপারী

এটি নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। মুছাপুর ক্লোজার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে অবস্থিত।

মুছাপুরে সমুদ্র সৈকত দেখার আনন্দ উপভোগ করা যায়। জেলেদের মাছ ধরা আর সাগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য যেকাউকে মূহুর্তেই মুগ্ধ করে তুলবে।

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট নোয়াখালী জেলার একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থান। এটি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামে অবস্থিত।

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট নোয়াখালী

এই স্থানটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর না হলেও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে ১৯৪৬ সালের ৭ নভেম্বর চৌমুহনী রেলস্টেশনে প্রথম মহাত্মাগান্ধী নোয়াখালীর মাটিতে পদার্পন করেন।

সেসময় বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট চালু করা হয়।

‘অহিংস’ সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহত্মা গান্ধীর কর্মময় জীবনকে তুলে ধরতে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন দুর্লভ ছবি, বই ও জিনিসপত্র নিয়ে ২০০০ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী আশ্রমের মূল ভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয় গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর

নোয়াখালীর গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন। তার স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থাগার ও জাদুঘর নির্মিত হয়েছে। এটি নোয়াখালীর আরেকটি বিখ্যাত স্থান।

এই জাদুঘরটি সোনাইমুড়ী উপজেলার রুহুল আমিন নগরে অবস্থিত। বীরশ্রেষ্ঠ’র নিজ গ্রামে ঘুরে আসলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা সম্ভব হবে।

বজরা শাহী মসজিদ

নোয়াখালীর আরেকটি বিখ্যাত স্থান বজরা শাহী মসজিদ। বজরা শাহী মসজিদ একটি মোঘল স্থাপত্য। এটি ১৮ শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের রাজত্বকালে ১৭৪১-৪২ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করেন আমান উল্লাহ।

বজরা শাহী মসজিদ, নোয়াখালী
বজরা শাহী মসজিদ, ছবিঃ যুগান্তর

বজরা শাহী মসজিদ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উওজেলার বজরায় অবস্থিত। বলা যায় এটি নোয়াখালীর সর্বাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা। কালের বিবর্তনে কয়েক দফা সংস্কারের পর এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি।

২৯ নভেম্বর ১৯৯৮ থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য কাজ করছে। দূর দূরান্ত থেকে নামাজ পড়ার জন্য মুসল্লিরা এই মসজিদে এসে থাকেন।

পৌর পার্ক, মাইজদী

মাইজদী জেলা প্রশাসনের সামনে অবস্থিত এক নয়নাভিরাম দৃশ্যসমৃদ্ধ পার্কটির নাম পৌর পার্ক। পার্কের পাশেই আছে এক বিশাল দীঘি। দীঘিতে দেখা যায় লাল শাপলা।

পৌর পার্ক, মাইজদী

দীঘির পাড়ে রয়েছে সুন্দর বসার ব্যবস্থা। বিকেল বেলা ছেলে-মেয়েরা এখানে একটু প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগে আসেন। পরিবার নিয়েও আসেন অনেকেই।

দীঘির পাড়ে বসলেই দক্ষিণা হাওয়ায় মন হারিয়ে যাবে অচিনপুরে। পার্কের পাশেই আছে ছোট্ট একটি ক্যান্টিন। সেখান পাওয়া যায় পিজ্জা, বার্গারসহ নানা রকম খাবার।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

নোয়াখালীর আরেকটি দর্শনীয় স্থান হলো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা সংক্ষেপে নোবিপ্রবি। এটি নোয়াখালীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। শহরের কোলাহল থেকে নিরিবিলি এক পরিবেশ দেখতে চাইলে চলে আসতে পারেন নোবিপ্রবি তে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোবিপ্রবি
নোবিপ্রবি

এখানে আসলে দেখতে পাবেন আসল নোয়াখালোর দৃশ্য। ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকায় দেখতে পাবেন মাঠের পর মাঠ। কিন্তু নেই তেমন কোলাহল।

এই আর্টিকেলে নোয়াখালীর বিখ্যাত স্থান ও এর সম্পর্কে সাধারণ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এই দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরতে যাওয়ার আগে আর্টিকেলটি আপনাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top