আজব খাওয়া | বাংলা কবিতা | মো: আরিফ হোসেন

★আজব খাওয়া
মো: আরিফ হোসেন

আজব খাওয়া | বাংলা কবিতা | মো: আরিফ হোসেন

খাই খাই কোরো না আর, একটু রসো রে
পিড়িটা টেনে নিয়ে, দাওয়াইয়ে বসো রে।
রেঁধেছি শুঁটকি ভুনা, খেতে নয় মন্দ
সাথে আছে নাপ্তিও, বাপ রে কি গন্ধ।
সোলক্যা খেতে চাও? রংপুরের লোকে খায়
কেউ খেলে এক বার সোলক্যার গুণ গায়।

কত রকম খাওয়া আছে লিখি তা তালিকায়
কেউ কেউ বউয়ের কাছে খুব বেশি গালি খায়।
অফিসে কেউ কেউ কাজের ভুলে ঝাড়ি খায়
পড়ালেখা ভুলে গেলে ছাত্ররাও বাড়ি খায়।
কেউ খায় বিড়ি আর কেউ খায় পান-টান
মাতালে মদ খেলে ধরে গলায় বেসুরো গান।

সুদ খেলে মহাজনে ভূরি তার বেড়ে যায়
টাকা খেলে খুনেরা, খুন করে মেরে যায়।
ইট খায় বালু খায় সরকারি চামচায়
টাকা হলে কেউ কেউ পিছনে খামচায়।
চুরি করে কেউ কেউ পুলিশের লাথি খায়
বাঁশডলা খায় কেউ ধরে যদি দারোগায়।

বড় বড় হোটেলে খায় কেউ বিরানি
চিকেন ফ্রাই খেতে কেউ চলে যায় ঝিরানি
চীনারা খায় নাকি ফড়িংয়ের রান্না
ঝাল খেয়ে কেউ কেউ করে যায় কান্না।
নানান জাতের আম খাও? চলো তবে রংপুর
কতো রকম আম চাও আছে সেথা ভরপুর।

আরো কতো খাওয়া আছে খেতে যদি চাও রে
সময় আর সুযোগ করে ইতালিতে যাও রে।
সেথা নাকি হোটেলে কুত্তার গোস্ খায়
শেয়ালও ধরে এনে দুবেলা ভোজ খায়।
গিরগিটি খেতে হলে চাই ভালো রসনা
আজব খাওয়া আছে ভবে একটু বস না।
শামুকের খোল তুলে কেউ খায় হোঁরপ্যা
ভ্যাবাচাকা খেয়ে কেউ হয়ে যায় ঘোরপ্যা।

যদি আরো খেতে চাও ফল মুল সব্জি
মার খেলে কারো কারো খুলে যায় কব্জি।
তিন দোল খায় কেউ, ডিগবাজি নয় কি?
গুলি খেলে কেউ কভু, গুলি খোর হয় কি?
বিষমটি খেলে কারো লেগে যায় তালুও
ঠকবাজের ধোঁকাতে বুদ্ধি হয় চালুও।

দুল দুল দুলনিতে কেউ কেউ দোল খায়
দাবার গুটিতে কেউ মারপ্যাঁচে ঘোল খায়।
খাওয়াদাওয়া কম খাও, খুব বেশি খেও না
আর যা খাও বাপু, ধোঁকাটি খেও না।

Leave a Comment